,

সবুজ যেখানে হাতছানি দিয়ে ডাকে

রফিক মজিদ : শেরপুর জেলায় বেশ কিছু পিকিনিক স্পট আছে। এসবের মধ্যে জেলার গারো পাহাড় এলাকার ঝিনাইগাতি উপজেলার গজনি অবকাশ, নালিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক, পানিহাটা এবং শ্রীবর্দী উপজেলার রাজার পাহাড় ও কর্ণঝোড়া পাহাড় উল্লেখযোগ্য। তবে কর্ণঝোড়ার পাশেই বালুঝুড়ি গ্রামটিও হতে পারে পর্যটনদের দর্শনীয় স্থান। এখানে রয়েছে উচুনিচু পাহাড়ি টিলা আর পাহাড়ের তীর ঘেষে বয়ে চলা সুমেশ্বরী নদী। বাঙালিদের পাশাপাশি রয়েছে আদিবাসী গারো ও কোচ সম্প্রদায়দের জীবকন জীবিকার নানা বৈচিত্র।
শেরপুর জেলা শহর থেকে শ্রীবর্দী উপজেলা সদরের দুরত্ব ১৮ কিলোমিটার। এরপর এখান থেকে ভায়ডাঙ্গা বাজার হয়ে বালুঝুড়ি বাজার আরো প্রায় ১৮ কিলোমিটার। বালুঝুড়ি হাইস্কুল পর্যন্ত পাকা সড়ক এরপর সমেশ্বরী নদীর পাড়দিয়ে পায়ে হেটে প্রায় তিন কিলো গেলে রাঙ্গাজান গ্রাম। গ্রামের উত্তর পাশেই কাঁটাতার বেষ্টিত ভারতীয় সীমানা। গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে গেছে আকাবাঁকা সুমেশ্বরী নদী। গ্রামের শেষ প্রাস্তে নদীর তীরে রয়েছে একটি কবরস্থান। এখানে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হওয়া বেশ কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধার কবর। এখানে উল্লেখযোগ্যের মধ্যে শেরপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্র মুন্তিবাজারস্থ শহীদ বুলবুল সড়ক যার নাম করণে করা হয়েছে সেই শহীদ বুলবুলের কবরটিও এখানে রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় আরো কয়েক মুক্তিযোদ্ধার কবর। যদিও ওই কবরস্থানটি অনেকটা অযত্বে পরে আছে তবুও এখানে এলে অনুভব হবে একাত্তরে বীর সেনারা কর কষ্ট করে জীবন বাজী রেখে দেশের জন্য লড়েছে।
রাঙ্গাজান গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ‘ইউ’ আকৃতি সুমেশ্বরী নদীটি পাশের গ্রামকে বাংলাদেশ ভূখন্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। কারণ ওই গ্রামের উত্তরে ভারত এবং বাকী দিন দিক দিয়ে নদীর বেষ্টনী। যাতায়ানের জন্য বর্ষায় নৌকা এবং শুষ্ক মওসুমে বাঁশের সাঁকোই সম্বল। ওখানে বাস করে প্রায় ৫ হাজার বাঙ্গালী এবং আদিবাসী খ্রষ্টান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
রাঙ্গাজন গ্রামের পশ্চিম আর উত্তর পাশ জুড়ে রয়েছে লাল মাটি’র সুউচ্চ পাহাড়ি টিলা। টিলা ঘেষে বয়ে গেছে ছোট ছোট আঁকা-বাঁকা ছড়া বা ঝর্ণা। এর সাথে যোগ হয়েছে সবুজ বন ভূমি’র দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য। গ্রামের শেষ মাথা থেকেই দেখা যায় ভারতের কাঁটাতারের ওপারের জনভূমি আর সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ বাহীনির তীক্ষè দৃস্টির অতন্ত্র প্রহরীর পদচারনা। কাঁটাতারের এপাশ-ওপাশে রাখাল বলকদের গরু চড়ানোর দৃশ্য। উভয় দেশের বেড়ার ফাঁকে কথা হয়, কুশলাদী আদান-প্রদান আর জীবনের নানা গল্পে তলিয়ে যায় বেলা। আবার তারা ফিরে আসে নিজ ঘরে। কিন্তু জীবনের গল্পের কিছু কাহিনী রখে আছে ওপারে। কিন্তু সে গল্পের কাহিনীকে আটকাতে পারে না ওই কাঁটাতারের বেড়া।
বালিঝুরি রাঙ্গাজানের সব চেয়ে আকর্ষনীয় এবং আর্শ্চয বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ‘অটোকল’ (স্থানীয় ভাষায়) অর্থাৎ মাটির নিচ থেকে অনেকটা অলৌকিক ভাবে দীর্ঘ দিন যাবত অনায়াসে উঠে আসছে বিসুদ্ধ সুপেয় খাবার পানি যে কোন ব্যাক্তি প্রথমে দেখলে বিশ্বাস করতে চাইবে না ওই পানি কোন রকম চাপ ছাড়াই উঠে আসলে মাটির উপর। সে পানির ধারা থেকে ওইসব এলাকায় ঘরে ঘরে এখন শহরের সাপ্লাই পানি’র মতো ট্যাপ বসানো হয়েছে। শুধু তাই নয় শুষ্ক মওসুমে স্থানীয়রা ওই পানি ব্যাবহার করে সেচ কাজে লাগিয়ে অনেক সাশ্রয়ী পেয়েছে।
সম্প্রতি শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবড়ি হয়ে ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। সড়কটি অনেকটা হাইওয়ে সড়কের মতোই প্রশস্থ। ফলে সড়কটি নির্মিত শেষ হলে ওই সড়কটি আকা-বাঁকা ও উচু নিচু হয়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁেষ যাওয়ার কারণে ওই পাহাড়ি এলাকার অন্যরকম সৌন্দর্যের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এছাড়া ভ্রমণকারীদেরও সহজ হবে বালিঝুড়িতে যাতায়াত করতে এবং অপরূপ দৃশ্য দেখতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com