,

প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে ঘুরে আসুন ‘নেওয়াবাড়ি টিলা’

রমেশ সরকার : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি নেওয়াবাড়ি টিলা। এটা কোনো বাড়ি বা আবাসিক স্থান নয়। এটা একটি পাহাড়ি টিলা যা শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে অবস্থিত। ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেষা শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী এলাকার এ নেওয়াবাড়ি টিলা হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি নেওয়াবড়ি টিলায় পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাখতে পারে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা। সরকাবি ভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় এ সম্ভাবনাময় পাহাড়ী জনপদে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠলে পিছিয়ে পড়া নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে।

শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের চুড়ায় নেওয়াবাড়ি টিলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে এক অপরুপ লীলাভূমি। এ টিলায় রয়েছে প্রায় ৭০ হেক্টর ভূমি জুড়ে রয়েছে চোখ ধাঁধানো মনোমুগ্ধকর সবুজের সমারোহ। জনশ্রুতি আছে অনেক অনেক আগে এ টিলায় প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রজাতির লতা (স্থানীয় ভাষায় ‘নেওয়া’) ও বৃক্ষ ছিল। একারণেই টিলাটি নেওয়াবাড়ি টিলা হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। ময়মনসিংহ বন বিভাগের বালিজুড়ি রেঞ্জের আওতায় এ টিলার প্রাকৃতিক গাছ ভূমি দস্যুরা চুরি করে গাছ কেটে ন্যাড়া করে ফেললে আশির দশকে এখানে গড়ে ওঠে উডলট বাগান। এ টিলার চারদিকে স্থানীয় বাঙালি মুসলমানদের পাশপাশি বসবাস করে গারো, কোচ, হাজং, বানাই গোত্রের লোকজন। এদের সকলের মধ্যে রয়েছে ভ্রাতৃত্ত্ব, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা। টিলার দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট পাহাড়ী ঝরনা।

বিধাতার অপরুপ সৃষ্টি নেওয়াবাড়ি টিলা ভ্রমন পিপাসু যে কোনো মানুষকে মুগ্ধ করবে। এখানে আসলে যে কেহ কিছুক্ষনের জন্য হলেও হারিয়ে যাবে প্রকৃতির কোলে। টিলার উপড়ে ওঠলে মনে হয় পাহাড় যেন দূর আকাশের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এখানে সারাক্ষণ বিরাজ করে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচির মিচির আওয়াজ। এর চার পাশের দৃশ্য ভ্রমন পিয়াসীদের মুগ্ধ করে তুলবে সারাক্ষণ। এ টিলার উঁচু চূঁড়ায় কোথাও সমতল ভূমি আবার কোথাও টিলার সমাহার। শীত কালে অনেক পর্যটক এ টিলার সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে ভির জমায়।

যেভাবে যাবেন : শেরপুর জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান। এখানে আসতে হলে নিজস্ব যানবাহন বা সিএনজি যোগে জেলা শহরের খোয়ারপাড় থেকে শ্রীবরদী সড়ক হয়ে সোজা উত্তরে শ্রীবরদী পৌর শহরের উপর দিয়ে বালিজুড়ি রেঞ্জ অফিসে আসতে হবে। রেঞ্জ অফিসের পশ্চিম পার্শ্বেই এ টিলার অবস্থান।

থাকা ও খাওয়া : শহরের নিউমার্কেট এলাকায় ও আশপাশে বেশ কয়েকটি খাওয়ার হোটেল ও থাকার জন্য মোটামুটি ভালো মানের গেষ্ট হাউজ বা আবাসিক হোটেল রয়েছে। যার যার পছন্দ ও বাজেটের মধ্যে বাছাই করে থাকতে ও খেতে পারেন এসব হোটেল রেস্তোরায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com