,

রাজা নেই রাজ্য নেই আছে রাজা’র পাহাড়

রফিক মজিদ : রাজা নেই রাজ্য নেই আছে রাজা’র পাহাড়। কথিত আছে সামন্ত যুগের এক গারো রাজা এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। সেই থেকে এ পাহাড় রাজা পাহাড় নামে পরিচিতি লাভ করে। শ্রীবরদীর গারো পাহাড়ের সবচেয়ে উচুঁ চুড়ায় বিশাল সমতল ভূমি নিয়ে এর অবস্থান।
শেরপুরের সীমাস্তবর্তী শ্রীবরদী উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নৈস্বর্গিক লীলা ভূমি রাজা পাহাড় হতে পারে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। বদলে যেতে পারে এ এলাকার গোটা আর্থ সামাজিক চিত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কর্মসংস্থান হতে পারে পিছিয়ে পরা এ অঞ্চলের হতদরিদ্র অনেক লোকের। প্রতি বছর অর্জিত হবে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ।
জানাগেছে, পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় এমন সুবিশাল সমভূমি বৃহত্তর ময়মনসিংহের আর কোথাও নেই। চারদিকে নানা প্রজাতির সারি সারি বৃক্ষরাজি বেষ্টিত শ্যামল ছায়া সুনিবিড় সুশীতল প্রাকৃতিক ভূ-স্বর্গ মন্ডিত নৈস্বর্গের লীলাভূমি এই রাজা পাহাড়। দেখলে মনে হয় যেন বিধাতা প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য এখানে লুকিয়ে রেখেছেন । যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবেনা। এখানে দাঁড়ালে মনে হয় আকাশ আর মাটি মিশে যেন একাকার হয়ে করেছে মিতালী। যে কোনো লোক কিছু ক্ষণের জন্য হলেও এখানে আসলে ভাবাবেশে হারিয়ে যাবে প্রকৃতির কোলে। প্রকৃতি প্রেমিকেরা একবার এখানে আসলে বারবার আসতে চাইবে এ রাজা পাহাড়ে। এর চারদিকে রয়েছে হাজার হাজার হেক্টর সরকারিভাবে সৃজিত উডলড বনবাগান। এবাগান গুলোতে সরকারিভাবে সৃজিত হয়েছে দ্রুত বর্ধনশীল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এ পাহাড়ের কাছেই রয়েছে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঝরনা, ফরেষ্ট বিট অফিস, রাবার বাগান, কর্ণঝোরা বাজার ও সীমান্ত ফাঁড়ি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ক্যাম্প। আর আছে আদিবাসি গারো খ্রীষ্টান পল্লী ও পাহাড়ী মুসলমানদের বসতি।
এখানের খ্রীষ্টান আর মুসলমানদের মাঝে রয়েছে গভীর সম্প্রীতি। নেই কোনো সাম্প্রদায়ীকতার হানাহানি, নেই কোনো ভেদাভেদ, আছে শুধু সম্প্রীতি আর ভালোবাসা। যার যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান সেই সেই সুšদর ও সুষ্ঠভাবে পালন করে। দেশের যে কোনো স্থান থেকে সড়ক পথে এখানে আসতে হলে জেলা শহর শেরপুর হয়ে শ্রীবরদী এসে সীমান্তবর্তী কর্ণঝোরা রোড ধরে কর্ণঝোরা বাজারে পৌঁছে যে কোনো লোককে জিজ্ঞাসা করলে বলে দিবে রাজাপাহাড়ের অবস্থান ।
শ্রীবরদী উপজেলা শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই রাজা পাহাড় । রাজা পাহাড়ের পার্শ্বেই রয়েছে আদিবাসী জনপদ বাবেলাকুনা ও হারিয়াকোনা। অনেক আগে থেকেই এই পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে এই গ্রাম দু’টি। বনের সবুজে মোড়া এই গ্রাম দু’টিও ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে পারে। গারো, হাজং,কোচ অধ্যুষিত আদিবাসীদের রয়েছে ভিন্নমাত্রার সংস্কৃতি সমৃদ্ধ বৈচিত্র ময় জীবনধারা। রয়েছে বন,পাহাড়,প্রাকৃতি বিরূপতা এবং পাহাড়ী জন্তুদের সাথে মিলে জীবন সংগ্রামের এক ভিন্ন চিত্র।
আদিবাসীদের সংস্কৃতি ধরে রাখতে এবং চর্চার কেন্দ্র হিসাবে রয়েছে এখানে বাবলাকোনা কালচারাল একাডেমী,জাদুঘর,লাইব্রেরী,গবেষণা বিভাগ ও মিলনায়তন। যেখানে থেকে আদিবাসী সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা সম্ভব পর্যটকদের।
এখানে রয়েছে কর্ণঝোড়া ও ঢেউফা নদী। বর্ষাকালে ঢেউফা নদী জোয়ারে কানায় কানায় উথলে উঠে। কিন্তু শীতে হয়ে শীর্ণকায়া। কিন্তু নদীর স্রোত কখনই বন্ধ হয়না। সারা বছর আপন মনেই বয়ে চলে এই নদী। এর বুকের বিশাল বালুচড় দেখলে মনে হবে পাহাড়ের কূলঘেষা এক বিকল্প সমুদ্র সৈকত।
বাবলাকোনায় আছে কারুকার্য খচিত গির্জা, মন্দির। এখানকার দর্শনীয় প্রকৃতি, আদিবাসীদের জীবনাচরণ ও সংস্কৃতি পর্যটকদের বারবার এখানে আকর্ষন করবে।
কিন্তু সম্ভাবনাময় এই পর্যটন স্থানটিতে নেই কোন পর্যটনের সুবিধা। নেই কোন রেস্ট হাউজ বা আবাসিক হোটেল। নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে অনেক ভ্রমন পিয়াসীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায় ক্ষুব্ধ হন তারা। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন যদি এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে বিনির্মানে নজর দিতেন তাহলে এ জায়গাটি যেমন পর্যটকদের নজরে পড়তো-তেমনি এখান থেকে সরকারের বাড়তো রাজস্ব আয়।

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com