,

ফুজি পর্বত আর রঙিন পাহাড়ের দেশে

মাহবুব মাসুম, জাপান(টোকিও) থেকে : জাপানে চলছে ১০ দিনের ছুটি! প্রতিবছরের ন্যায় এক ঝাঁক ভ্রমণ পিপাসু বাংলাদেশি এবারও ভ্রমণে। প্রযুক্তির দেশে মেঘ-পাহাড়-পর্বত আর প্রকৃতির রূপ দেখতে বেড়িয়ে পরার আনন্দও অন্যরকম। ভ্রমণ কী কেবলই ঘুরাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, আর ঘুমানো? না, মোটেই তা নয়। যে জায়গাটিতে যাওয়া হয় সেই জায়গাটির মাটি ও মানুষের পাশাপাশি ওই জায়গার ইতিহাস-ঐতিহ্য-রূপের সাথে নিজেকে মেলানোর নামই সত্যিকারের ভ্রমণ। প্রতিবছর এমনই এক ব্যাতিক্রমী ভ্রমণের আয়োজন করে থাকে প্রবাসী একদল নিষ্ঠাবান বাঙালি। এবারও যথারীতি (বৃহস্পতি থেকে শনিবার) তিন দিনের জন্য বেড়িয়ে পরেছিলাম আমরা প্রায় ৩শতাধিক বাংলাদেশি। এবারের লক্ষ্য ছিল ফুজি পর্বত ও এর আশপাশের লেক আর দৃষ্টি নন্দন বর্ণিল পাহাড় ভ্রমণ।

জাপানের অন্যতম ঐতিহ্য ও দৃষ্টিনন্দন জনপ্রিয় স্থান হলো মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে থাকা বরফ আর পাথরের অপরূপ সমন্বয়ে গঠিত ফুজি পর্বতমালা। এটিই জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত। এর আশপাশে নয়ন জুড়ানো অংখ্যা বর্ণিল পাহাড়, লেক, হাজারো ফুলের ফ্লাওয়ার পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র লাখো ভ্রমণ পিপাসুদের মন কেরে নেয়। বিদেশি পর্যটকরা জাপান ভ্রমণে এসে এই স্থানে আসে না। এমন পর্যটক পাওয়া দুষ্কর! আমাদের ভ্রমণের প্রথম দু’দিন আবহাওয়া ভালো থাকলেও তৃতীয় বা শেষ দিন বৃষ্টির কারণে হাজারো ফ্লাওয়ার সমৃদ্ধ ফ্লাওয়ার পার্ক থেকে ফুজি পর্বত দেখার সুযোগটি হাত ছাড়া হয়ে যায়। তারপরও তিনদিনে আমরা অনেক পাহাড়, লেক ও ফুজি পবর্তের চারপাশ ঘুরে দেখেছি। এখনো বরফ ব্যষ্টিত থাকায় ফুজি পর্বতে উঠা সম্ভব হয়নি। সাধারণত আগষ্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের পর্বতের উঠার জন্য খুলে দেয়া হয়। যাইহোক যা দেখেছি তা কখনো লিখে বা বলে এর সুন্দর্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।

ফুজি পর্বত আর লেকের পাশেই ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের ফুজকাওয়াগুচিকো’র একটি রিসোর্টের পুরোটাই আমরা ভারা নিয়েছিলাম। তিন দিন রিসোর্টটা মনে হয়েছে একটুকরো বাংলাদেশ। জাপানের দূর দূরান্ত থেকে সপরিবারে বাংলাদেশিরা এসে ভ্রমণটিকে মিলনমেলায় পরিণত করেছিল। জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীদের তিনদিন ব্যাপী সর্ববৃহৎ মিলনমেলার সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ইসলামিক মিশন জাপান। জাপানের ওসাকা, নাগোয়া, টোকিও, সাইতামা, গুন্মা, তচিগী, ইবারাকি, চিবা, কানাগাওয়া, ফুকুশিমা সহ বিভিন্ন প্রিপেকচার থেকে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু এই সম্মেলনে অংশ নেয়। ২য় দিন সন্ধ্যায় দিশারী শিল্পী গোষ্ঠী ও সাইতা সাকুরার শিশু-কিশোরদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সবার মন কাড়ে। জাপান প্রবাসী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ও একটি আদর্শ প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতেও বিশেষ কর্মসূচিও রাখা হয়েছিল।

এ বৃহৎ আয়োজন যাদের পরিশ্রমে স্বার্থক হয়েছে তাদের মধ্যে বিশিষ্ট গাড়ী ব্যবসায়ী এটিএম মিছবাহুল কবির, আলাউদ্দিন ভাই ও হাফেজ ছাবের আহমেদ ভাই এর প্রানান্তকর চেষ্টা। এছাড়ও কষ্ট করেছেন ময়িনুর রহমান, আব্দুল মোমেন, সোহাগ সিদ্দিকী, মোস্তফা, সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ, আবু খালিদ ভাই অন্যতম। ফেরার পথে কেমন যেন সবার মন খারাপ! আবার যান্ত্রিক জীবনে ফেরা। এক গাধা কাজ। জাপানিরা তো কাজ ছাড়া কিছু বুঝে না। নিখুত কাজ, নিপুন প্রযুক্তি, সততা আর দায়িত্ববোধ তাদেরকে বিশ্ব সেরা করেছে। যাইহোক আবার কবে ফিরবে সেই কাঙ্খিত মে। আবার কবে হারিয়ে যাবো অন্য কোন শহর-নগর-গ্রাম বা পাহাড়-সমুদ্রের তীরে। সেই প্রত্যাশায় সবার বাড়ি ফেরা।

 

masum86cu@yahoo.com

+8107041063143

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com