,

৬ জুলাই খাটুয়াপাড়া গণহত্যা দিবস

রফিক মজিদ : ৬ জুলাই ১৯৭১ সালের এই দিনে শেরপুরের রাঙামাটিয়া খাঠুয়াপাড়া গ্রামে ঘটেছিল বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ । এই যুদ্ধে শহীদ হন কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল আহসান, আলী হোসেন ও মোফাজ্জল হোসেনসহ নাম না জানা আরো অনেক মুক্তিকামী সিপাহী জনতা। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তালিকায় নাম নেই শহীদদের ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের, নেই কোন স্মৃতি স্তম্ভ, কালের স্বাক্ষী হয়ে পড়ে আছে ঐতিহাসিক কাঁটাখালী ব্রীজ ।

১৯৭১ সালের জুলাই মাসের চার তারিখ শনিবার ভোরে কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল আহসানের নেতৃত্বে ৫৩ জনের মুক্তিযোদ্ধার দল অবস্থান নেন মালিঝি ইউনিয়নের রাঙামাটিয়া গ্রামে আতর আলীর বাড়ীতে। পরিকল্পনা মতে ৫ জুলাই রাতে সফলতার সাথে অপারেশন শেষ করে মুক্তিযোদ্ধারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে আশ্রয় নেয় খাটুয়াপাড়ার হাজী নঈমদ্দিন ও হাজী শুকুর মামুদের বাড়িতে। বাড়ির চারপাশে ছিল প্রশস্থ বিল।

মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান টের পেয়ে এলাকার রাজাকার জালালউদ্দিন মিস্ত্রি তার ছোট ভাই হক আলী শেরপুরের তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা কামারুজ্জামানকে ও ঝিনাইগাতী আহম্মদ নগর পাকিস্থানী ক্যম্পে খবর দেয়।

৬ জুলাই সোমবার সকালে কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই গ্রামে প্রবেশের একটি মাত্র কাঁচা সড়কের দু’দিক থেকে ব্যারিকেড দেয় পাকসেনা ও রাজাকার আলবদররা। গ্রামবাসীদের অনুরোধে মুক্তিযোদ্ধারা বিলের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে করতে পিছু হটে।

এ সময় পাকহানাদারদের বেপরোয়া গোলা বর্ষণে কোম্পানি কমান্ডার ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র নাজমুল আহসান, তার চাচাত ভাই মোফাজ্জল হোসেন ও ভাতিজা আলী হোসেন শহীদ হন। বাকি মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান পেলেও, বর্বরোচিত হামলার শিকার হন খাটুয়াপাড়া রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দারা।

তাদের ৬০/৭০ জনকে কোমরে দড়ি বেঁধে লাঠিপেটা করতে করতে নিয়ে যাওয়া হয় খাটুয়াপাড়া সরকারী রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। আগুন লাগিয়ে দেয় বাড়িঘরে। ধর্ষণ করে নারীদের। অমানবিক নির্যাতন করে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে ৬ জন গ্রামবাসীকে। এরা হলো, আয়াতুল্লাহ, সামেছ মিস্ত্রি, মহেন্দ্র অধিকারী, আব্বাছ আলী, আমেজ উদ্দিন ও বাদশা আলী। আহত হন অনেকে।

দালালদের বাঁধার মুখে সেদিন লাশও দাফন করতে পারেননি শহীদদের স্বজনরা। কলার ভেলায় পিতার লাশ ভাসিয়ে দিয়েছিলেন নদীতে।
তাই এই এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবী মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার পাশা পাশি নিরীহ ৬ গ্রামবাসীকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি।

তবে শেরপুরের সচেতন মহলের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক কাঁটাখালী ব্রীজটি ভেঙ্গে ফেলার পরিবর্তে ওখানে একটি স্মৃতি ফলক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

শেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নূরুল ইসলাম হিরু জানায়, ইতিমধ্যে সরকার রাঙামাটিয়া খাটুয়াপাড়া গ্রামের একাত্তরে নির্যাতনের শিকার ৪ জনকে বিরঙ্গনা ক্ষেতাবে ভূষিত করেছে। এছাড়া নালিতাবাড়ির কৃতি সন্তান ও বর্তমান নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব আব্দস সামাদ সম্প্রতি ডিও লেটার দিয়েছে ওই গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক নির্মানের জন্য। পাশাপাশি এলডিইডি কর্তৃক রাঙামটিয়াসহ জেলার সকল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি বিজরিত স্থান সমূহে ফলক নির্মানের জরিপ করা হলেও আজো তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি এসব কাজ দ্রুত সম্পদনের জন্য সরকারের প্রতি জোড় দাবী জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com