,

৩১ বছর কেটে গেলেও কেউ কথা রাখেনি…

রফিক মজিদ : শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে একটি ব্রীজ ৩১ বছর যাবত ভেঙ্গে পড়ে থাকলেও কারো নজরে পড়ছে না। তাই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ এই বিখ্যাত কবিতাটির মতোই বলতে হয় “৩১ বছর কেটে গেলো কেউ কথা রাখেনি”।

শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামের একটি স্লুইট গেইট কাম ব্রীজ ১৯৮৮ সালের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে পড়ে থাকলেও বিগত ৩১ বছরে সরকার বদল হয়েছে কয়েকবার, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে বেশ কয়েকটি।

প্রতিটি নির্বাচনের ভোটের সময় সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ওই গ্রামে ভোট নিতে এসে বার বারই কথা দিয়েছে ভোটে জিতলেই সংস্কার হবে ব্রীজ ও স্লুইটগেইটটি। ভোট যায়, ভোট আসে কিন্তু কেউ কথা রাখেনি ওই ব্রীজ ও স্লুইট গেইটটি সংস্কার করতে।

জানাগেছে, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝি নদীর উপর ১৯৮৬/৮৭ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছিল সাত কপাট বিশিষ্ঠ স্লুইচ গেইট কাম ফুট ব্রীজ। কিন্তু পরবর্তিতে নির্মাণের দেড় বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পানির তোড়ে আকস্মিকভাবে ওই স্লুইট গেইটের তিনটি কপাট ভেঙ্গে যায়।

সেইসাথে পানির তোড়ে দুই পাশের মাটিও ভেসে গিয়ে ব্রীজটিও মাটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তিতে স্লুইস গেইটটি ব্যাবহারের অযোগ্য হয়ে পরে।

ফলে বর্তমানে প্রায় ৩১ বছর ধরে গেইটটির লোহার কপাটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরে আছে অযতœ আর অবহেলায়। গেইটটি দ্রুত সংস্কার করে ওই এলাকার ১৫টি গ্রামের শতশত একর অনাবাদি জমি গুলোকে সেচের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। সেই সাথে ওইসব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ব্রীজের সংস্কারের দাবীও জানান তারা।

এদিকে স্থানীয়রা নিজ উদ্দোগে ব্রীজের দুই পার্শ্বে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মূল ব্রীজের সাথে সংযোগ তৈরী করে ঝুকি নিয়ে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু বিগত এই ৩১ বছরে ওই ঝুকি পূর্ন বাঁশ-কাঠের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালিয়ে ব্রীজ পারাপার হতে গিয়ে ইতিমধ্যে ১ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে।

এছাড়া ওই গ্রামের বিবাহযোগ্য কোন ছেলে বা মেয়েকে অন্য এলাকার মানুষ বিয়েও করতে চায়না বলে জানালেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় কৃষকরা জানায়, ঝুকিপূর্ণ ওই ব্রীজ দিয়ে অতিরিক্ত শ্রমিকের মধ্যেমে পারাপার করতে তাদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও অনেক বেশী খরচ হওয়ায় তাদের সেই ফসল বিক্রি করে উৎপাদন মূল্যও উঠে না।

এদিকে স্লুইস গেইটটির দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে আগামী অর্থ বছরে পূণরায় নির্মাণের কথা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com