,

হিজড়া পূণর্বাসনে সরকারিভাবে আবাসন নির্মাণ হবে শেরপুরে

হাকিম বাবুল : ‘ডিসি ম্যাডাম যখন বললেন, শেরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জন্য সরকারিভাবে একটি আবাসন প্রকল্প হবে, তখন কী যে খুশী হয়েছি। আসলে বলে বুঝাতে পারবো না। আমরা সবাই মিলে সেদিন আনন্দ-স্ফুর্তি করেছি। আমরা ভীষণ খুশি হয়েছি। আমরা ওই আবাসনে নিজেদের মতো করে বসবাস করতে পারবো, জীবনযাপন করতে পারবো।’ ডিসি ম্যাডাম আমাদের কথা দিয়েছিলেন বাসস্থান করে দেবেন। আমরা সেদিন তার কথায় বিশ্বাস রাখতে পারিনি। মনে হয়েছিলো, কতো জনেতো কতো কথাই বলে। কাজের কাজতো কিছুই হয়না। কিন্তু এখন আমরা ভরসা পেয়েছি।’ কথাগুলো বলছিলেন শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিশি সরকার।
কথায় কথায় নিশি সরকার বলেন, আসলে আমরা সমাজে ভীষণভাবে অবহেলিত। আমাদের দেখে মানুষ হাসে, ঘৃণা করে। কিন্তু আমাদের যে কত কষ্ট তা মানুষ বোঝে না। পরিবারে আমাদের স্থান নেই, সমাজ আমাদের ঘৃণার চোখে দেখে। কিন্তু আমরা সমাজে সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে চাই, মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আমাদের থাকা খাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নাই, ক্ষুধার জ্বালায় মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। বাধ্য হয়ে আমাদের পথে নামতে হয়। কিন্তু আমরাওতো মানুষ। আমাদের থাকার জায়গা দরকার। লেখাপড়া করা দরকার। বিনোদন দরকার, কাজের সুযোগ দরকার। সর্বোপরি আমরা মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু সমাজের কাছে আমরা মূল্যহীন থাকায় কারও ওপরেই আমাদের আস্থা ছিলো না।

নিশি সরকার বলেন, এখন আমরা আমাদের যেকোনো প্রয়োজনে ডিসি-এসপি স্যারের সাথে একসাথে বসতে পারি। অনুষ্ঠানেও দাওয়াত পাই। তারা আমাদেরকে দাওয়াত করে খাইয়েছেন। গেল রমজানের রোজায় এসপি সাহেব (কাজী আশরাফুল আজীম) স্যার আমাদের শেরপুরের সকল হিজড়াদের নিয়ে ইফতার মাহফিল করেছেন। ঈদে সবাইকে শাড়ী ও সেমাই-চিনি উপহার দিয়েছেন। ঈদের দিন হুইপ আতিক এমপি এবং সমাজের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সহ একসাথে দুপুরে দাওয়াত খাইয়েছেন। ডিসি স্যারও (আনার কলি মাহবুব) ঈদ উপহার হিসেবে এবার আমাদের সবাইকে চাল-ডাল, সেমাই, সুজি, চা, নারকেল তেল ও প্রসাধনীসহ ১৪ প্রকারের জিনিস দিয়েছেন। ঈদ কার্ড দিয়েছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান ভাই (হুমায়ুন কবীর রুমান), সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানু ভাই (ছানুয়ার হোসেন ছানু), সাবেক মহিলা এমপি শ্যামলী আপা (ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলী) এবং হুইপ সাহেব (হুইপ আতিউর রহমান আতিক) আমাদেরকে ঈদ উপহার দিয়েছেন। আগেতো কেউ আমাদের খোঁজ নেওয়াতে দূরের কথা, আমগরে সবাই দুর দুর ছেই ছেই করতো। এখন সবাই আমাদের ডাকে, আদর করে উপহার দেয়। এই জন্যই এখন আমরা তাদের কথায় ভরসা পাই, আশ^স্ত হই।

তিনি বলেন, ঈদের আগে আগে আমাদের কয়েকজন হিজড়াকে সদর উপজেলার কুসুমহাটি বাজারে এক দোকানদার মারপিট করে। ঘটনাটি আমি এসপি স্যারকে জানানোর পর সাথে সাথে তিনি পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। ওই দোকানদার পরে আমগর নিকট মাফ চাইছে। আমগর এক হিজড়া কিছুদিন আগে মায়া অসুস্থ্য হয়ে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডিসি ম্যাডামকে আমি ফোন দেওয়ার পর তিনি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। যদিও সে বাঁচেনি, কিন্তু ডিসি ম্যাডাম নিজ খরচে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি ওই হিজড়ার জানাযা নামাজের ব্যবস্থা করেন এবং দাফন-কাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদানও দিয়েছিলেন। শীতের সময় ডিসি ম্যাডাম আমাদের কম্বল দিয়েছেন। এটা আমাদেরকে খুবই আপ্লুত করেছে। শুধু তাই নয়, ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডালিয়া আপা (রাজিয়া সামাদ ডালিয়া) আমাদেরকে এখন যেখানে আছি, সেখানকার বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে দিচ্ছেন। জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির কালাম ভাই, হাকিম ভাই, শামীম ভাই সহ সবাই আমাদেরকে সবসময় সহায়তা করছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন, আপদে-বিপদে এগিয়ে আসছেন। সাংবাদিকরাও আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। আমাদের বিষয় তারা পত্র-পত্রিকায়, টেলিভিশনে তুলে ধরছেন। এটা আমাদেরকে খুব ভরসা যোগাচ্ছে। এজন্যই বলছি, এখন বিশ^াস করা যায়, আস্থা রাখা যায়।

নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির মাধ্যমে শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠিকে সংগঠিত করে জেলা প্রশাসনের সাথে তাদের আবাসন ও কর্মসংস্থানের দাবীতে গত বছরের নবেম্বর মাসে (২০১৮ সালের ৮ নবেম্বর) ‘শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা করা হয়। হিজড়াদের নিয়ে জেলায় এটাই ছিলো প্রথম কোন আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ জন হিজড়া ছাড়াও ডিসি-এসপি, সমাজসেবা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী, ব্যবসায়ী সহ সুধীসমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় জনউদ্যোগের পক্ষ থেকে মুলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলা হয়, রাষ্ট্র হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ বলে স্বীকৃতি দিলেও আজও তাদের সামাজিক স্বীকৃতি মিলেনি। হিজড়াদের তাই সুযোগ হয়ে ওঠেনি অন্যদের মতো কাজ করার। পরিবারও তাদের জায়গা দিতে চায়না। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো শেরপুরে প্রায় অর্ধশতাধিক হিজড়াকে ভাড়া বাসায় থেকে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে তাদের কর্মসংস্থানের কোন সুযোগ নেই। যে কারণে ভিক্ষাবৃত্তি, উৎসব-অনুষ্ঠানাদিতে হানা দিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করেই তাদের চলতে হচ্ছে। তাদেরও সমাজের অন্য পাঁচজনের মতো বেঁচে থাকার অধিকার আছে। স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকার আছে। কেউ তাদের ভালো চোখে দেখে না। ফলে প্রতিনিয়তই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইতে হচ্ছে। তাদের মৌলিক অধিকার ভোগের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে তারাও সমাজের মুলস্রোতধারায় ফিরে আসতে পারে। সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের জন্য পৃথক আবাসস্থল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা প্রয়োজন। হিজড়া সম্পর্কে আমাদের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যদি সচেতন থাকি, তাহলে হিজড়াদের জীবন আরো সুন্দর হয়ে উঠবে।

সেই অনুষ্ঠান থেকেই জনউদ্যোগের প্রস্তাবে শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সমিতি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সমাজকর্মীরা এরপর থেকেই হিজড়া জনগোষ্ঠিকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর জেলায় হিজড়া জরিপ ও তাদের জন্য কর্মসূচি গ্রহণে উদ্যোগ গ্রহণ করে। জেলার ৫ উপজেলায় হিজড়া জরিপ কমিটিতে জনউদ্যোগের একজন করে প্রতিনিধিও অন্তভুক্ত করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে বাসস্থান ও কর্মস্থানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘হিজড়া আবাসন প্রকল্প’ প্রস্তাব প্রেরন করা হয়। ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইনোভেশন মেলায় হিজড়াদের সমাজের মুল¯্রােতে আনার বিষয়ে আত্মকর্মসংস্থান মুলক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি ও স্বাবলম্বি করার বিষয়ে ‘বিভাগীয় শো-কেস’ প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। গত ২০ মে ২০১৯ তারিখে জনউদ্যোগ কমিটির সহায়তায় শেরপুর পুলিশ লাইন্সে হিজড়াদের সম্মানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম ইফতার ও দোওয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। স্থানীয়ভাবে বসবাসকারি ৪০ জন হিজড়া এতে অংশগ্রহণ করেন এবং হিজড়ারা জীবনে এমন সম্মান পাননি বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেরপুরে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে হিজড়াদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলমান ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন হিজড়াদের হালনাগাদ ভোটার তালিকার জন্য তথ্য সংগ্রহ কার্যকম শেষ হয়েছে। ৯ জুলাই হিজড়াদের ভোটার তালিকার ছবি তোলার কাজ শেষ হবে। এছাড়া গত ঈদুল ফেতরের ঈদ উপহার হিসেবে পুলিশ সুপার ৫২ জন হিজড়াকে শাড়ী এবং সেমাই-চিনি সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। এসডিসি (টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট) বাস্তবায়নে স্থানীয়করনের ক্ষেত্রে ‘হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন’ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরী করেছে জেলা প্রশাসন।

ভোটাধিকার পাওয়ার পাশাপাশি এবার তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করছে সরকার। এলক্ষ্যে দেশের প্রথম জেলা হিসেবে শেরপুরে হিজড়া সম্প্রদায়ের ৫২ জন সদস্যের বাসস্থান তৈরির জন্য দুই একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর মৌজার আন্ধারিয়া গ্রামে হিজড়াদের জন্য এ আবাসন তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব। তিনি বলেন, অবহেলিত এ সম্প্রদায়কে সমাজের মূলস্রোতে সামিল করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে হিজড়াদের সাথে মতবিনিময়কালে তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বাসস্থানের জন্য আমরা পত্র পাঠিয়েছিলাম। ইতোমধ্যেই তা অনুমোদিত হয়েছে। সদরের আন্ধারিয়া গ্রামে হিজড়াদের জন্য দুই একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখানে তাদের বাসস্থান করে দেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিজড়াদের জন্য ভীষণ আন্তরিক বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক আরও জানান, কেবল বাসস্থান নয়, ওই আবাসন প্রকল্পে হিজড়াদের পূণর্বাসন ও কর্মর্সস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন, হাঁস-মুরগী, গবাদি পশুপালন, মৎস্য চাষ সহ বিভিন্ন ধরনের আত্মকর্ম প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, হিজড়াদের সমাজের মুলস্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্য, তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করছি। কীভাবে হিজড়াদের জীবনমানের উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। মোটকথা তারা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সমাজের আর অন্য দশজনের মতো চলাফেরা-কাজকর্ম করতে পারে, সেজন্য তাদের উপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করতে প্রচেষ্ঠা চলছে।
হিজড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিশি সরকারের জন্ম শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় হলেও সে এখন বসবাস করছে শেরপুর শহরের বাগরাকসা এলাকার একটি টিনশেড ভাড়া বাড়ীতে। সেখানেই তার সাথে আরও ১৬ জন হিজড়া ছোট দু’টি কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। হিজড়া নিশি সরকার শেরপুর সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনায় অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছে। তার গুরুমাতা এবং জেলা হিজড়া কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদা আরো ১৫/১৬ জন হিজড়াকে নিয়ে বাস করেন শহরের গৌরিপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ীতে। ভিক্ষাবৃত্তি, উৎসব-অনুষ্ঠানাদিতে হানা দিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করেই তাদের চলছে হিজড়াদের দিনকাল। তবে শেরপুরে এখন এসব ঘটনা অনেকটা কমে এসেছে।

হিজড়া নিশি সরকার বলেন, ডিসি ম্যাডাম ঈদ উপহার দেওয়ার সময় হিজড়া আবাসনের সংবাদ দেন। সেই খবর পেয়ে আমাদের খুব ভাল লেগেছে। শুনেছি বাসস্থান হওয়ার পর আমাদের কর্মসংস্থানের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব করা হলে আমরা দেশের জন্য অবদান রাখতে পারবো।

হিজড়া গুরুমাতা মোর্শেদা বেগম বলেন, আমরা পথে পথে ঘুরতে চাইনা, কাউকে অত্যাচার করতে চাইনা। আমরা ভালোভাবে বাঁচতে চাই। আমাদের জন্য কিছু করলে আমরা উপকৃত হবো। তিনি বলেন, আসলে এভাবে জীবন চালাতে এখন আমাদেরও ভালো লাগেনা। সবাই এখন আমাদের আদর করছে, ডাকছে, সম্মান দিচ্ছে। তাই আমরাও আর আগের মতো জোরজবরদস্তি করি না। যে যা দেয়, তাই নিয়েই চলতে চেষ্টা করি।

জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা সবসময় তাদের দেখলেও আড়ালে থাকা একটি জনগোষ্ঠিকে আলোতে আনতে চেয়েছি। হিজড়া জনগোষ্ঠিকে নিয়ে শেরপুরে জনউদ্যোগের ভাবনা এখন স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বমহলে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছি। হিজড়াদেরকেও তাদের চিরায়ত আঁধার থেকে বের করে আনতে নানাভাবে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। সমাজের লোকজনও নানাভাবে এগিয়ে এসেছেন। এক্ষেত্রে সবকিছু মিলিয়ে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়টি এখন একটি পরিণতির দিকে যাচ্ছে। হিজড়াদের অত্যাচারও এখন আগের চাইতে অনেক কমেছে। সরকারীভাবে তাদের বাসস্থান, পূণর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে সত্যিই একটি চমৎকার বিষয় হবে। এজন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী যাঁরা এগিয়ে এসেছেন, দৃষ্টি নিবন্ধ করেছেন, তাদের প্রতি রইলো আমাদের কৃতজ্ঞতা।

লেখক : সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com