,

জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩০ হাজার কৃষক!

আলোকিত ডিস্ক : শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদীর পাশাপাশি শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা থেকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসায় শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ার দোকান এলাকার কজওয়ে দিয়ে ১০ দিন পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে শেরপুর-টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে।

এদিকে জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও প্লাবিত এলাকাগুলোতে ঘর-বাড়ির পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য বিভাগসহ নানা বিভাগের ক্ষত চিহৃ ভেসে উঠছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে শিশুসহ নানা বয়সের মানুষের ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগ।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জানাগেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৫২ ইউনিয়নের মধ্যে ৩০ ইউনিয়নই বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। বন্যাকবলিত ওইসব ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রামে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়ক যোগাযোগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় জেলায় ১১৬৫ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৫৭০ হেক্টর জমির আউশ আবাদ, ২৭০ হেক্টর জমির সবজি, ৬০ হেক্টর জমির পাট আবাদ বিনষ্ট হয়েছে। এতে এ বিভাগের আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

জেলায় ৩ হাজার ১৩২ মৎস্য খামার, পুকুর ডুবে ও পাড় ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৪০৬ চাষী। এতে মাছ ও পোনা ভেসে গিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জেলায় ১৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঁচটি মাদ্রাসা ও একটি কলেজসহ ২৪ প্রতিষ্ঠানসহ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ২২টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকে পানি নেমে গেলেও সেগুলোর অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নকলা উপজেলার দক্ষিণ নারায়ণখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীনের উপক্রম হয়ে পড়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের আওতায় সাধারণ মানুষের হাঁস-মুরগি মরে ও খামার ভেসে ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আর বন্যায় প্রাণহানি হয়েছে ২৫ গবাদিপশুর। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় ৩৭৯টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ার দোকান এলাকায় কজওয়েসহ পাকা-কাঁচা মিলে এলজিইডি ও সওজ বিভাগের আওতায় অসংখ্য রাস্তাঘাট, ব্রীজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় এবং জরিপ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তাঘাটের চুরান্ত ক্ষতির পরিমাণ দিতে পারেনি এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে তাৎক্ষনিক তথ্যানুযায়ী জেলায় ১৬৫ কিলোমিটার পাকা, আধা পাকা ও কাঁচা সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ১টি ব্রীজ ও ৮টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৭৫ জনমানুষ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাপে কাটার কোন ঘটনা না ঘটলেও বন্যার পানিতে ডুবে ৯ শিশু ও বজ্রপাতে একজনসহ ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

অন্যদিকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে জেলা প্রশাসনের আওতায় ইতোমধ্যে মোট ১০৫ টন চাল ও নগদ দেড় লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এলাকাগুলোতে ৫২টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তারা বিনামূল্যে দুর্গত মানুষের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন ও ওষুধ বিতরণ করছে।

বন্যার বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এফএম মোবারক হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও বন্যায় চলতি মৌসুমে ৬৬৫ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা সম্পূর্ণ ও ৪৯৫ হেক্টর জমির বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া আউশ, সবজি ও পাটেরও ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ওইসব ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্যাউত্তর পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় ইতোমধ্যে কমিউনিটি বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজসহ নানা সহায়তা দেয়া হবে। আপদকালীন বীজতলা ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2016 allrights reserved to AlokitoSherpur.Com | Desing & Developed BY Popular-IT.Com Server Managed BY PopularServer.Com